বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৯:১৭
ইয়ামানী জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হুথী নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ সরকার

ইয়ামানের জনসংখ্যার ২০-৩০% এর মধ্য থেকে একটি অংশ রয়েছে সৌদি সমর্থিত তথাকথিত ইয়ামানী সরকারের নিয়ন্ত্রণে!!

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়ামানের জনসংখ্যার ৭০-৮০% হুথীদের নিয়ন্ত্রণে জীবন যাপন ও বসবাস করছে। আর ইয়ামানের জনসংখ্যার ২০-৩০% এর মধ্য থেকে একটি অংশ রয়েছে সৌদি সমর্থিত তথাকথিত ইয়ামানী সরকারের নিয়ন্ত্রণে!!

রাজধানী সানা সহ ইয়ামানী জনগণের ৭০-৮০% হুথীদের সাথে থেকেও হুথীদের নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ সরকারকে সৌদী আরব ও পশ্চিমা দেশগুলো  বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত ও প্রচার করছে এবং ইয়ামানী জনগণের মাত্র ২০-৩০% -এর একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে সৌদী-পশ্চিমা সমর্থিত অথচ ইয়ামানী জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী পার্লামেন্ট কর্তৃক অভিসংশিত ও পদচ্যুত ফেরারী (পলাতক) প্রেসিডেন্ট আব্দু রব্বিহ মানসূর আল-হাদী সরকারকে সৌদী আরব ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে ইয়ামানের প্রকৃত বৈধ ও আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সরকার।

ইয়ামানী জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হুথী নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ সরকার

এটা আসলে সত্যের কত বড় অপলাপ!!! আর ঐ ২০-৩০% এর একটি অংশ আরব আমিরাত সমর্থিত এবং ২০-৩০% আরেকটি অংশ রয়েছে আল-কায়দা ও দায়েশের (আইসিস) মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।তার মানে সৌদি-পশ্চিমাদের স্বীকৃত তথাকথিত ইয়ামানী সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়ামানী জনগণের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ (২০% এরও অনেক কম)।এখন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও অর্থ অনুসারে ইয়ামানের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব কারী কি হুথী নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ সরকার নাকি সৌদি-পশ্চিমাদের স্বীকৃত ও সমর্থিত তথাকথিত ইয়ামানী সরকার?!!আপনারাই বিচার করুন!

অতএব ইয়ামানের প্রকৃত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি হচ্ছে সৌদী ও পশ্চিমাদের সমর্থিত তথাকথিত ইয়ামানী সরকার না হুথীরা।
রাজধানী সানা হুথীদের নিয়ন্ত্রণে এবং হুথীদেরকে সমর্থন করছে ইয়ামানের জনগণের ৭০-৮০%।যদি এই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ হুথীদের সমর্থন না করত তাহলে ১২ বছরের অধিক কাল ধরে হুথী নিয়ন্ত্রিত ইয়ামানের ওপর সৌদী -পশ্চিমাদের আরোপিত সর্বাত্মক অবরোধ এবং চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে হুথীরা টিকে থাকতে পারত না এবং এ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে পশ্চিমা দের বিশেষ করে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সর্বাত্মক সমর্থন পুষ্ট সৌদী আরব ও আরব আমিরাত কখনো পরাজিত ও ব্যর্থ হত না।

কথায় কথায় সৌদী আরব ও পশ্চিমারা এই হুথীদের সম্পর্কে অপপ্রচার করে বলে বেড়ায় যে তারা নাকি ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী।আসলে ব্যাপক জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা না থাকলে শুধু ইরানের সমর্থন পেয়ে হুথীরা সৌদী ও আরব আমিরাতের আগ্রাসন ও যুদ্ধে টিকে থাকতে পারত না।

ইয়ামানের জনগণ ও হুথীরা মযলূম বলেই ইরান তাদের সমর্থন ও সাহায্য করছে এবং তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।২০-৩০%-এরও অতি অল্পসংখ্যক অর্থাৎ মুষ্টিমেয় জনগণের সমর্থন নিয়ে তথাকথিত ইয়ামানী সরকারকে কিভাবে মধ্যযুগীয় ধাঁচের চরম অত্যাচারী গণবিরোধী টোটালিটারিয়ান সৌদী রাজতান্ত্রিক সরকার এবং তথাকথিত গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী পশ্চিমারা বলছে ইয়ামানের বৈধ সরকার এবং হুথীরা অবৈধ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

হুথী নিয়ন্ত্রিত ইয়ামানের ওপর অন্যায় মূলক অবরোধ আরোপ করে সৌদী আরব, আরব আমিরাত ও পশ্চিমা দেশগুলো ইয়ামানী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে (৭০-৮০%) চরম অবর্ণনীয় প্রাণান্তকর কষ্ট ও যাতনার মধ্যে ফেলে রেখেছে এবং চরম শাস্তি দিচ্ছে এই সুদীর্ঘ বারো বছর ধরে?!!!

তাই সৌদী আরব,আরব আমিরাত এবং পশ্চিমা দেশগুলো আসলেই ইয়ামানী জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতা এবং অবৈধ যুদ্ধ ও আগ্রাসনে লিপ্ত রয়েছে  এবং তাদেরকে তিলে তিলে হত্যা করছে। তাই সৌদী আরব, আরব আমিরাত ও পশ্চিমা দেশগুলো ইয়ামানী জনগণের প্রকৃত শত্রু।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সৌদী পশ্চিমা সমর্থিত ও স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দু রব্বিহ মানসূর আল-হাদী সরকার অর্থাৎ তথাকথিত ইয়ামানী সরকার ২০১৪ সালে জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপ ও ভূমিকা রাখার জন্য ইয়ামানী পার্লামেন্ট কর্তৃক অভিসংশিত হয়ে পদচ্যুত হয়।

কিন্তু সৌদী পশ্চিমা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দু রব্বিহ মানসূর আল-হাদী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখলে সানা সহ ইয়ামানে গণ অভ্যুত্থান ঘটে যা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে পদচ্যুত সরকার দমন করলে ইয়ামানী জনতার সার্বিক উত্থান ও আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সৌদী আরবে পালিয়ে যায় প্রেসিডেন্ট আব্দু রব্বিহ মানসূর আল-হাদী ও তার সরকারের মন্ত্রীরা। তাই পদচ্যুত প্রেসিডেন্টের এই তথাকথিত ইয়ামানী সরকার যা সৌদী-পশ্চিমা সমর্থিত তা আসলে বৈধ ইয়ামানী সরকার নয় বরং পার্লামেন্ট কর্তৃক অভিসংশিত এবং জনগণ কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত।

তাই এর কোনো গণভিত্তি নেই।আর এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইয়ামানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ (৭০-৮০%) হুথীদের সমর্থক। কিন্তু সৌদী আরব ও পশ্চিমারা বলে বেড়ায় ও প্রচার করে যে ইয়ামানী জনগণের ৭০-৮০% হুথীদের নিয়ন্ত্রণাধীনে জীবন যাপন করছে (Some 70 to 80% of Yemenis live under the Houthis'

control.দেখুন: Brookings (ব্রুকিংস): The Houthis after the Yemeni cease-fire [ইয়ামানের যুদ্ধ বিরতির পরে হুথীরা]
Bruce Riede (ব্রুস রীড)
January 27, 2023 জানুয়ারি ২৭,২০২৩)
এ কেমন বিচার যে ইয়ামানী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের (৭০-৮০%) সমর্থনপুষ্ট হুথী নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যমতের আনসারুল্লাহ সরকার রাজধানী সানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও অবৈধ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বলে গণ্য করছে সৌদী আরব ও গোটা পশ্চিমা বিশ্ব অথচ ২০% এরও কম জনসমর্থন নিয়ে  অভিসংশিত, পদচ্যুত ও পলায়নকারী প্রেসিডেন্ট আব্দু রব্বিহ মানসূর আল-হাদী সরকারকে এরা বলছে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ও বৈধ সরকার ?!!!
সৌদী আরবের কথা বাদ; কারণ তা গণতান্ত্রিক সরকার তো নয়ই বরং মধ্যযুগীয় চরম স্বৈরাচারী অত্যাচারী যালেম রাজতান্ত্রিক সরকার যার মধ্যে গণতন্ত্রের গও নেই।

কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব তথাকথিত গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী ও দাবিদার হয়ে কিভাবে একটা গণ ধিকৃত ও জনগণ কর্তৃক পদচ্যুত চরম সংখ্যালঘু তথাকথিত ইয়ামানী সরকারকে বৈধ সরকার বলে গণ্য করছে?এ কেমন গণতন্ত্র পশ্চিমাদের?!

চরম স্বৈরাচারী ও গণতন্ত্র বৈরী মধ্যযুগীয় ধাঁচের সৌদী রাজতান্ত্রিক সরকারের সাথে তথাকথিত গণতান্ত্রিক পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরা (যুক্তরাজ্য) জোট বেঁধে ইয়ামানী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পুষ্ট হুথী নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ সরকারের চরম বিরোধিতা করছে।

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সঠিক ও প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চাই করে না।

গণতন্ত্র হচ্ছে পশ্চিমাদের মুখের ফাঁকা বুলি ও মাকাল ফল মার্কা শ্লোগান যা দিয়ে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয় তারা ও সবাইকে গবেট ও গরু গাধা বানিয়ে নিজেদের বেআইনী অবৈধ‌ স্বার্থ চরিতার্থ করে।ইয়ামানের চলমান ঘটনাবলী তথাকথিত গণতান্ত্রিক পশ্চিমা দেশগুলোর মুখোশ খুব ভালো ভাবে উন্মোচিত করেছে। এরপরও কি পাশ্চাত্য প্রেমিকরা পাশ্চাত্য প্রেম ও পূজায় অন্ধভাবে মত্ত থাকবে?
 

মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha